Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / ‘আমি ছেলেকে ক্রিকেটারের সাথে কোরআনে হাফেজ বানাবো’

‘আমি ছেলেকে ক্রিকেটারের সাথে কোরআনে হাফেজ বানাবো’

ক্তে তার খেলাধূলা। ভাই রোকনুজ্জামান কাঞ্চন জাতীয় দলের সাবেক কৃতি স্ট্রাইকার। আরো দুই ভাইও ছিলেন ফুটবলার। সাত বোনের মধ্যে অন্য দুই বোনও খেলাধূলা করতেন। আর ঝর্ণা আক্তার চিনি নিজেও ছিলেন অ্যাথলেট। জানেন একটি ছেলের খেলোয়াড় হওয়ার উপকারীতা কতটুকু।

তাই ছেলে শেখ ইয়ামিন সিনানকে ভর্তি করিয়েছেন পল্টন ময়দানস্থ কবি নজরুল ক্রিকেট অ্যাকাডেমীতে। সে সাথে সুযোগ পেলেই ছেলের সাথে ব্যাট বল নিয়ে নেট প্র্যাকটিসে নেমে পড়েন ঝর্না। এভাবেই আলোচিত এই মা ও ছেলে। প্র’চণ্ড ধর্মপ্রাণ এবং পর্দানশীন ঝর্নার লক্ষ্য এক মাত্র ছেলেকে ক্রিকেটারের পাশাপাশি কোরআনে হাফেজ বানানো।

অ্যাথলেটিক্সে ঝর্না অংশ নিতেন ২শ’, ৪শ’ মিটার স্প্রিন্ট, শটপুট, ডিসকাস এবং লং জাম্পে। পুরোপুরি পর্দানশীন হন বিয়ের পর। তা মর’হুম শ্ব’শুড়ের উৎসাহে। বিয়ের পর খেলাধূলা করেছেন ঝর্না। তখন শ্ব’শুড়ের একটাই কথা ছিল, ক্রীড়ার পাশাপাশি তোমাকে পর্দা করতেই হবে। এখন ঝর্নার উপল’ব্ধি, ‘হিজাব পড়ার পর আমার সম্মান আরো বেড়েছে।

গাড়ীতে উঠলে আমাকে সিট ছেড়ে দেয়া হয়। কেউ কোনো বাজে মন্তব্য করে না।’ এই হিজাব পড়েই ছেলের সাথে ক্রিকেটে মেনে উঠেন ঝর্না। জানান, ‘সকালে আমি আর সিনান যখন নেটে পরস্পরের বিপক্ষে বল করি তখন শর্ত থাকে, আমি আউট হলে সে ব্যাট করবে। আর সে আউট হলে আমি।’

ঝর্না থাকেন মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায়। আর ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন মতিঝিল আরামবাগের আল করিম ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র ১১ বছর বয়সী সিনান। মাদ্রাসা থেকে মাঠে এসে পায়জামা পাঞ্জাবী খুলেই ক্রিকেটের ড্রেস পরে নেন সিনান। ক্ষুদে এই ক্রিকেটারের প্রিয় বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। অবশ্য সিনানের ইচ্ছে লেগ স্পিনার হওয়া। যদিও মায়ের ইচ্ছে ছেলে যেন অল রাউন্ডার হয়।

ঝর্নার বক্তব্য, ‘আমি চাই আমার ছেলে অলরাউন্ডার হোক। যাতে কোনো অংশে কমতি না থাকে। আমার প্রত্যাশা সিনান যেন বাংলাদেশ দলে খেলে।’ যোগ করেন, আমি চাই আমার ছেলে প্রকৃত মুসলমান হোক। এ জন্য তাকে কোরআনে হাফেজও বানাবো। সোমবার বিকেলে যখন পল্টন ময়দান খ্যাত আউটার স্টেডিয়ামে কথা হচ্ছিল ঝর্না আক্তার আসরের নামাজ পড়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলেন। ছিলেন রোজাও।

জানান, ‘আমি নবীজী ( স:) এর সাথে মিল রেখে প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখি।’ এই সেপ্টেম্বরইে ছেলেকে ভর্তি করেছেন ক্রিকেট অ্যাকাডেমীতে। সাথে নিজের আফসোস তার খেলোয়াড়ী সময়ে দেশে প্রচলিত ছিল না মহিলা ক্রিকেট। ‘আমার সময়ে মহিলা ক্রিকেট থাকলে কেউ আমাকে ক্রিকেটার হওয়া থেকে ঠেকাতে পারতো না।’ বললেন ঝর্না। আরো তথ্য দেন, আমি প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসিজদে জুম্মার পড়ি।

মামা দেশের নামী ফুটবলার। তাহলে তুমি কেন ক্রিকেটে আসলে? সিনানেন উত্তর, ‘মামা ফুটবলার ছিলেন। কিন্তু আমি হতে চাই ক্রিকেটার।’ এখন তার ইচ্ছে একবার প্রিয় তারকা মুশফিকের সাথে দেখা করা। অবশ্য সিনানের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া বোনের প্রিয় ফুটবল।নয়া দিগন্ত

About noman munshi

Check Also

ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশীসহ ৩৫ জনকে নিয়ে নৌকাডুবি

যু’দ্ধকব’লিত লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ৩৫ জনের একটি নৌকা ডু’বে গেছে। শুক্রবার (২৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *