Thursday , October 1 2020
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ফের উ’ত্তপ্ত রাখাইন, বাকি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে মিয়ানমারের নয়া কৌ’শল

ফের উ’ত্তপ্ত রাখাইন, বাকি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে মিয়ানমারের নয়া কৌ’শল

ফের অ’গ্নিগ’র্ভ রাখাইন। রাজ্যজুড়ে নতুন করে সেনা সমাবেশ ঘ’টিয়েছে মিয়ানমার। সীমান্ত এলাকাতেও তাদের স’ন্দেহজ’নক গতিবিধি বাড়ছে। ৩ বছর আগে (২০১৭ সালে) যেসব বি’ভ্রান্ত বৌদ্ধ যুবকদের সহায়তায় গণহ’ত্যা, গ’ণধ’র্ষ’ণসহ বর্বর নি’র্যাত’নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সমূলে উ’চ্ছেদ চে’ষ্টা চালিয়েছিল আজ সেই বৌদ্ধদের (মগ) টার্গেটে অপারেশন চালাচ্ছে মিয়ানমার আর্মি। তাদের টা’র্গেটে পরিবর্তন এলেও অশান্ত রাখাইন পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য মা’থাব্য’থার কারণ হিসেবেই থাকছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশ সীমান্ত সং’লগ্ন রাখাইন পুরোপুরি খালি করতে নয়া কৗশল গ্রহণ করেছে মিয়ানমার। এতে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনা সংবাদ মাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বার্তা সংস্থা এপি’র বরাতে চলতি বছরের জুনে রাখাইন পরিস্থিতি এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি সং’ক্রান্ত প্রথম রিপোর্ট করে।

সেই রিপোর্টে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ‘রাখাইন খালি করার নির্দেশ’-এর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেই নির্দেশ প্রদানের সপ্তাহান্তে সেখানে ফের ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে বর্মি বাহিনী। বৌদ্ধ-মগদের অধিকার আদায়ে উন্নত প্রশিক্ষণে প্রস্তুত তাদের স’শ’স্ত্র গেরিলা ফোর্স আরাকান আর্মি দমনের নামে পরিচালিত ওই অপারেশনে বাছ-বিচারহীন আ’ক্র’মণ, প্রায় ৪০টি গ্রাম পু’ড়িয়ে দেয়া এবং ব্যা’পক হ’ত্যায’জ্ঞের কারণে ১০ হাজারের অধিক নারী-পুরুষ ক’মাসে বা’স্তুচ্যুত হয়।

আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যু’দ্ধ চলছে এবং সেই প্রেক্ষিতে তাদের নিধনে রাখাইনের স্থানীয় সরকার অধিবাসী গ্রামগুলো খালির নির্দেশ দেয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে গত ক’মাস ধরে নিয়মিতভাবে রাখাইন পরিস্থিতি এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বেশেষে হাজারও মানুষের বা’স্তুচ্যুতি এবং দু’র্দ’শার সিরিজ রিপোর্ট প্রচার হচ্ছে।

অনলাইন আল-জাজিরার সর্বশেষ সাক্ষাৎকার ভিত্তিক রিপোর্ট বলছে, রাখাইন পরিস্থিতি এমন যে ম’রণঘা’তী করোনার চেয়েও সেখানকার জনসাধারণ বেশি ভী’ত সম্প্রতি নিয়োগকৃত সেনাবাহিনীকে নিয়ে। রিপোর্টে উঠে এসেছে, রাখাইনে যখন তখন আ’কিস্ম’কভাবে গু’লি চলে।

গু’লির শব্দে স্থানীয়দের রাতের ঘুম হা’রাম। টার্গেটকৃত গ্রামে আ’গু’ন জ্বা’লিয়ে দেয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর যে ব’র্ব’রতা হয়েছিল প্রায় অভিন্ন কায়দায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখন রাতে গ্রামবাসীর ওপর বেপ’রোয়া গু’লি চালাচ্ছে। বাড়িঘর পু’ড়িয়ে দেয়ায় আশ্রয়হীন গ্রামবাসী নি’রাপ’দ আ’শ্রয়ের সন্ধানে দি’গ্বিদিক ছুটছেন।

ঢাকার আ’শঙ্কা- পরিস্থিতির অবি’নতি ঘটলে রাখাইনে অবশিষ্ট প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা এবং নি’র্যাতি’ত মগরা আন্তর্জাতিক সী’মান্তে আশ্রয় খুঁজতে পারে। রাখাইন সং’ক’ট নতুন মাত্রা পেতে পারে। রাখাইন কনফ্লিক্টেরে বিদ্যমান বাস্তবতা এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্র সীমান্ত সং’লগ্ন এলাকা দিয়ে গত শুক্রবার ভোরে আ’চমকা হাজারও বর্মি সেনার স’ন্দে’হজনক পারাপার, সীমান্তের অন্তত তিনটি পয়েন্টে সৈন্যদের উপস্থিতির বিষয়ে উ’দ্বেগ এবং প্রতি’বাদ জানাতে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে রোববার তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এসব অ’পতৎপ’রতা বন্ধ করে দুই দেশের মধ্যকার ভুলবোঝাবুঝির অবসানে মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলে বাংলাদেশ। এ সময় একটি প্রটেস্ট নোটও রাষ্ট্রদূতের হাতে ধ’রিয়ে দেয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সেলের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের দপ্তরে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

মিয়ানমার দেখভালকারী ঢাকার কূটনীতিকরা মানবজমিনকে গতকাল জানিয়েছেন, স’ন্দেহজ’নক গতিবিধির মাধ্যমে রাখাইনে সেনা সমাবেশ দুই দেশের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে গণহ’ত্যা শুরুর প্রাথমিক পর্বে এভাবেই সেখানে সেনাদের জড়ো করেছিল মিয়ানমার।

তাছাড়া ১১ই সেপ্টেম্বরের সেনা সমাবেশের কারণে রাখাইনে এখন যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন, তাদের মধ্যে নতুন করে ভী’তি ছড়িয়ে পড়ার আ’শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে কা নিউন ছুয়াং, মিন গা লার গি ও গার খু ইয়া -সীমান্তের এই তিন পয়েন্টে ট্রলার থেকে সৈন্যরা নেমেছে। এই পয়েন্টগুলোর মধ্যে অন্তত একটির দূরত্ব আন্তর্জাতিক সীমান্তের ২০০ মিটারের মধ্যে।

সেদিন এক হাজারের বেশি সৈন্য সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে রাখাইনে প্রবেশ করেছে বলে ঢাকা ধারণা পেয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, রাখাইনে সেনা সমাবেশের একাধিক কারণ থাকতে পারে। সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে পারে মিয়ানমার।

তাছাড়া তিন-চার বছর ধরে, বিশেষ করে যারা ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার অপা’রেশনে যুক্ত ছিল, তাদের সী’মান্ত থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেয়ার জন্যও এটি হতে পারে। স্মরণ করা যায়, আইসিসিতে দুই সৈন্যের জবানব’ন্দি রেকর্ডের পর থেকে পুরনো সেনাদের রাখাইন থেকে ফেরত নিতে মরি’য়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। নতুন করে আর যাতে কোনো সৈন্য পক্ষ ত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে তাদের নজর রয়েছে বলে রিপোর্ট মিলিছে।

About noman munshi

Check Also

মারা গেলেন কুয়েতের আমির

কুয়েতের আমির সাবাহ আল-আহমাদ আল-জাবের আল সাবাহ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃ”ত্যুকালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *